একবিংশ শতাব্দীর মহাত্মা গান্ধী নিউজিল্যান্ডের জাসিন্ডা আরডার্ন
— ডাঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

মহাত্মা গান্ধী-র সাথে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন-এর বেশ কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়, দুজনেই শেতাঙ্গ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে চরম ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, দুজনেই ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ ভূলে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন, গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং মুসলমানদের সমর্থন লাভের জন্য খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। যার ফলে ভারতীয় মুসলমানরাও অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেন। যা পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে রুপ নেয়, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহে অনুপ্রানিত হয়েই হিন্দু, মুসলিম, জৈন, শিক সবাই মিলে উগ্র শেতাঙ্গবাদী(White Supremacy) ব্রিটিশদের ঝেটিয়ে বিদায় করে। জাসিন্ডা আরডার্ন-এর আহবানে খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিক সকলে একই পতাকাতলে অবস্থান নিয়ে বর্ণবাদের উগ্রতাকে ঘৃণা জানিয়েছে। ১৮৯৫ সালে গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা যান, সেখানে তিনি শেতাঙ্গ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থেকে যান, শেষতক আফ্রিকায় এই উপমহাদেশের অভিবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করে ভারতে এসে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৯ সালে তুরুস্কের খলিফা ওসমানী খিলাফত রক্ষার জন্য বিশ্ব মুসলমানদের কাছে আহ্বান জানান। এই আহবানে সারা দিয়ে উত্তর ভারতে প্রথম এই আন্দোলন শুরু হয় যা পরবর্তীতে সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পরে, গান্ধীজী এ ক্ষেত্রেও সায় দেন। কিন্তু চরমপন্থী “নথুরাম গডসে” নামক এক ভারতীয়ের গুলিতেই গান্ধী শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন, পন্ডিত জহরলাল নেহেরু সেদিন বলেছিলেন “আজ হতে ভারত বর্ষের আলো নিভে গেলো, কারন গান্ধীজী-ই খোদ বৃটেনে যেয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই এই সল্প পোশাকে বৈঠক করে ব্রিটিশদের আলোচনায় বাধ্য করেছিলেন।” আজ নিউজিল্যান্ডে-র প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-ও চরম পন্থিদের থেকে টুইটারে সরাসরি হুমকি পেয়েছেন, একটি দুনলা বন্দুক দেখিয়ে বলা হয়েছে, এরপর তুমি…. তাই বলে কি তিনি থেমে যাবেন, নিশ্চয়-ই নয়, যুগে যুগে মানবতাবাদীদের-ই জয় হয়েছে, ইতিহাস তার সাক্ষী।