আজ ৩০-শে মার্চ “Happy Doctor’s Day”—-
এ আন্তজার্তিক দিবসটি এবারের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ, সারাবিশ্বের চিকিৎসকদের ওপর ঠিক এ মুহূর্তে অত্যন্ত গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে,প্রথম চাইনিজ চিকিৎসক ডা.লী-এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে করোনা কেন্দ্রীক চিকিৎসায় ডাক্তারদের আত্মাহুতি শুরু হয়েছিলো যার ধারাবাহিকতা সারা দুনিয়াব্যাপী মহান এই পেশাজীবিগণ অদ্যাবধি অব্যাহত রেখেছেন।
আজ পর্যন্ত কেবল ইতালীতেই অর্ধ শতাধিক চিকিৎসক নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন,স্পেন-বৃটেন-আমেরিকা সব দেশেই
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে,
উপরোল্লিখিত দেশসমূহে ডাক্তারদের এ প্রাণ বিসর্জন
অনেকটা নতুন,কারণ চিকিৎসা সেবায় সর্বাধিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ সব দেশে ইতিপূর্বে এ হেন সংবেদনশীল অবস্থায় চিকিৎসা সেবা প্রদানের ঘটনা
ঘটেনি,১৯১৮ এর স্পেনিস ফ্লু-তে ও পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যেই ছিলো। কিন্তু আমাদের দেশের চিকিৎসকদের জন্য এ হেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোটেও নতুন নয়,গত বছর-ই ডেংগু মোকাবেলা করতে যেয়ে ৯ জন চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন,ইতিপূর্বে রাজনৈতিক হানাহানির সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনে পোড়া মানুষগুলোর সেবা করার জন্য বিক্ষুব্ধ রাস্তা পেরিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ডাক্তারগণ চিকিৎসা দিয়েছেন,অথচ উন্নত দেশগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিকরা সদা সচেষ্ট,সরকার ও বিরোধীদের মাঝে সাম্ভব্য হানাহানি হওয়ার আগেই রাজনীতিক-রা সমাধানে এগিয়ে আসেন,ফলে চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়েনা।
আমরা পেশাজীবি রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে জড়াতে চাইনে,কিন্তু চর্মমাঝে ফোস্কা ফুটে ওঠে যখন না বুঝে ঐসব কথিত রাজনীতিকগণ টক-শো নামক অখাদ্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উস্কে দেবার অপপ্রয়াস চালান যদিও এ দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো চিকিৎসা পেশা এক মহৎ পেশারুপে প্রতীয়মান।
এদেশে চিকিৎসকদের যতোটা না বেদনাকাতর রোগীদের সামলাতে হয়,তার থেকে ঢেড় বেশী সামলাতে হয় ঈর্ষাকাতর আমলাদের বিভিন্ন হিংসাত্মক প্রজ্ঞাপন ও টক শো-র নামে এক শ্রেণীর বাচাল রাজনীতিকদের উদ্ভট বাক্যালাপ,যা রীতিমতো গাত্রদাহের সৃষ্টি করে।
আরেক শ্রেণীর মানুষ আছেন, যারা নিজেদের সামান্য বৈষয়িক সুবিধা লাভের লক্ষ্যে স্বজাতির ক্ষতি করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না,তারা চিকিৎসক হয়েও ডাক্তারদের পক্ষে কথা না বলে গতানুগতিক গড্ডালিকায় সুর তোলেন।
এ সব ভিত্তিহীন সমালোচনা সত্তেও তরুণ ডাক্তারগণ যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরী করেছেন, যেভাবে ঢাল তালোয়ার (PPE) ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নেমে পড়েছেন,তা নিঃসন্দেহে এ দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আজকের এই দিনে করতালী দিয়ে স্বাগত জানাই সকল তৃনমুল পর্যায়ের চিকিৎসকদের যারা মতদ্বৈধতা
নিয়েই চরম সাহসের সাথে করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে এসছে,এবং এখনো নিজ নিজ ক্ষেত্রে সেবা দিয়ে যাচ্ছে,— ‘Hats Off’ to All Doctors of Bangladesh.

Leave a Comment