‘সংসার বিমুখী বৈরাগী মন’ মোটেও ইহলোক ও পারলৌকিক সুখ প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটাবে..

অধ্যাপক ডঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

আমি বাউল গানের আদ্ধাত্য ও আধ্যাত্যিক বিষয়াদী খুব একটা বুঝিনা, শরীয়তি-মারিফতি-তৈব্বিতি ইত্যাদি নানাবিধ স্টেজিং রয়েছে, তবে আমি একটি হাদিস এ ক্ষেত্রে সদা স্মরণ রাখি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলতেন– — ” আমার উম্মতের মাঝে সংসার বিমুখ বেরাগ্যের কোন স্থান নেই,আমি তোমাদের চেয়েও অধিক আল্লাহকে ভয় করি ও তার ইবাদত করি,একই সাথে সংসারের দায়িত্বগুলোও ভালভাবে পালন করি, সুতরাং তোমাদের কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করে, তবে সে-ই আল্লাহর নিকট প্রিয় হইবে”। মাঝে মাঝে কিছু ব্যক্তিত্ত্বজনিত সমস্যার রোগী অনেকে নিয়ে আসে, যারা আপাত দৃষ্টিতে বেশ যৌক্তিক কথা বলে, পূর্ণ বুদ্ধিমান এবং যথেষ্ট-ই বিবেকবান, এমন কি আমাদের চেয়েও অনেক বেশী মানবতাবাদী,কিন্তু পরিবারের লোকজন তাদের মাঝে পরিবার কেন্দ্রিক আগ্রহ ও পরিবার সম্পর্কিতপরিকল্পনা-র বড্ড অভাব দেখতে পায়, এ অবস্থায় তাদের পরোপকারী ও অত্যধিক মানবতাবাদী মনকে অশান্ত চিত্তের আহাজারি মনে হয়। সচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন পরিবার-এর কেউ হলে কিছুটা এ আচরণ মেনে নেয়া যায়, কিন্তু অনটনকেন্দ্রীক পরিবারের জন্য ইহা Alarming (বিপদজনক)। আপনি তাদের কাউন্সিলিং করতে গেলেও আপনার খুব বেগ পেতে হবে কারন তাদের দৃষ্টিতে তারা এ ক্ষেত্রে পারলৌকিক মঙ্গলের প্রচ্ছন্ন আবেশ খুঁজে পায়, তা-ই কিছুটা বিচলিত হয়েই তাদের সাথে ধৈর্যের বাঁধ ধরে রেখে Psychotherapy sessions চালিয়ে যেতে হয়।অন্য ধর্মবেত্তাদের বিষয়টি ভিন্ন, তাদের ধর্মে পরিবার সন্নাসবাদিতা ও মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেয়ার কথা বলে নিজ সংসারকে গৌণ করা হয়, কিন্তু অন্তত ইসলাম মোটেও তা প্রশ্রয় দেয়না, বরং চরমভাবে অনুৎসাহিত করে,আরেকটি হাদিসে এমনটাই উল্লেখ আছে “সেই আমার কাছে সর্বোত্তম,যে তার পরিবারে(স্ত্রী-পরিজন)-র নিকট উত্তম” আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আউল-বাউল গোষ্ঠী ছাড়াও তথাকথিত মাজারপূজারী বা ভন্ড পীর বাবা শ্রেণীর লোকের মাঝে এ ধরনের অবিবাহিত জীবন যাপনের প্রচলন দেখা যায় তারা অন্যান্য ধর্মকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করে। Buddist Monk, Christian Father, Sister or Nun কিংবা গেরুয়া পরিধেয় চিরকুমার হিন্দু পন্ডিত -দের অনুসরণ বা অনুকরণ কক্ষনোই উচিৎ নয়, সংসার ধর্মে থেকেই নিজেকে অভিযোজিত করতে হবে মানব ধর্মের জন্য, তাতেই শান্তি ও সুখ ও পরপারে গ্রহণযোগ্যতা আসবে। চিরকুমার আর চিরকুমারী থাকার এ প্রকৃয়াটি অত্যন্ত অমানবিক ও বিজ্ঞান বর্হিভূত, প্রতিটি সুস্থ সাভাবিক মানুষের মাঝে জৈবীক চাহিদা রয়েছে,ইহা জীবনের অন্যতম অংশ। ধর্মের নামে মানব জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে গৌণ করে রাখলে, গোপনে তাদের মাঝে অনৈতিকতার প্রসার ঘটতে থাকবে, সমাজে ব্যভিচার বাড়বে,তাই ইসলামের ইতিহাস কক্ষনোই ‘খুঁজা’ হওয়া বা সংসার ত্যগী বৈরাগী হওয়াকে সমর্থন করেনি।

Leave a Comment