E-commerce (E-valley, E-Orange, এহসান গ্রুপ etc)-এর নিষ্ঠুর শিকারে বিষন্নতায় ভূগছে হুজুগে বিনিয়োগকারীগণ।

অধ্যাপক ডঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

চার-দিন আগেও যে যুবক কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে সৎ রোজগারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো, দু-দিন আগেও যে একটি বেসরকারী ব্যংকে জয়েন করে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছিলো, উচ্চাকাঙ্খী ও কিছুটা লোভী শ্রেণীর এ তরুণকে টোপ গিলিয়ে যে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও মন্ত্রণালয়ের কেরানী আমলাগণ জনগণের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব করলো, তাকে হিংস্রতম মনুষ্য রক্তচোষা Russel Viper বানালো, সেই সাপুড়েদের কি আদৌ কিছু হবে ????? না হলে, না হবে; কিন্তু আমি সরব কেন? এ জন্য যে ইতোমধ্যেই হতাশাগ্রস্ত যুবকদের কেউ কেউ আমাদের চেম্বারে নক করেছে, কারো মাঝে সুইসাইডাল আইডিয়াও এসছে, কারন অনেকটা হুজুগে ও লোভে পড়ে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলো এ প্রতিশ্রুতিশীল উঠতি বেকার তরুণগণ, ধার-দেনা করে; মা-বোন-বউ এর গয়না বেচে E-valy -তে সব ঢেলেছে, কারন রুপোলী পর্দার তথাকথিত চটকদারতারকারা তাদের লোভাতুর করে তুলেছিলো, তাদের আর তর সইছিলো না, যার যা আছে, তা-র পুরোটাই বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে তাদের বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে পরামর্শ দিচ্ছিলো; এই রুপালী পর্দার প্রগলভ ছেলে-মেয়েগুলোকেও কি জওয়াবদিহীতার আওতায় আদৌ আনা হবে? না কেবল বিষাক্ত সাপটিকে ধরেই এ খেলা-র পরিসমাপ্তি ঘটবে? অপেক্ষমান রইলাম, তবে আমরা সাধ্যমতো সচেষ্ট থাকবো এ দেশের গরীব মেধাবী ছেলেগুলোর ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকার গহবরে হারিয়ে না যায়, তাদের বিষন্নতা রোধে ভূমিকা রেখে যাবো, এ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে প্রতারক-হন্তারকদেরদের ছোবল থেকে – এ হোক আমাদের দৃঢ অংগীকার।

Leave a Comment