উপমহাদেশের সাইকিয়াট্রিস্টরা ওয়েবভিত্তিক সেমিনারে করোনাকালীন মানসিক সমস্যাকে যথাযথ মূল্যায়নের অনুরোধ জানালেন।

উপমহাদেশের বেশীর ভাগ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ধারনা করোনাকালীন সময়েই ‘বিষন্নতা’ ও ‘স্ট্রেস ডিসওর্ডার’ বা চাপজনিত মানসিক ভারসাম্যহীনতা(উদ্দেগ-হতাশা)-য় ভূগতে থাকবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সাধারণত জণগণ; তবে মালদ্বীপ-শ্রীলংকা-নেপাল ও ভূটান অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত হওয়ায় তাদের মাঝে এ মানসিক রোগগুলোর প্রবণতা তুলনামূলক কম হবে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বেশী ঝুঁকিপূর্ন অবস্থানে রয়েছে; আফগানিস্তান ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকলেও, রাজধানী কাবুল ছাড়া অন্যত্র করোনা-র সংক্রমণ বেশ ধীরগতিতে রয়েছে, তবে তাদের মাঝে শংকা বা ভীতিজনক মানসিক রোগ কম; মায়ানমারের পুরো পরিসংখ্যান স্পষ্ট নয়।

অধ্যাপক ইউসুফ ম্যচেসোলা, অধ্যাপক কার্সী ক্যভডা, অধ্যাপক ণিলেশ শাহ্, ডা.রাশমিন কোহলাসহ অনেকে তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
প্রায় অর্ধশতাধিক সাইকিয়াট্রিস্ট ইহাতে অংশগ্রহণ করে তাদের লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। সম্মুখসারীর চিকিৎসকগণ প্রতিনিয়ত আশংকাজনক অবস্থায় থেকে বিরাজমান পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, নিজেদেরকে পরিবার পরিজন থেকে দূরে রেখে কোয়ারেন্টাইন পালন করছেন, প্রায়শঃই সাথের সহকর্মীগণ অসুস্থ হচ্ছেন, ফলে তিনি তার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত বাড়তি চাপ অনুভব করতে পারেন, তাই সকল সাইকিয়াট্রিস্টরা অন্তত মাসে একবার Questionnaire-সরবরাহ করে ফ্রন্টলাইনার ডাক্তারদের মানসিক অবস্থার সময়োপযুুুগী মূল্যায়ন করার বিষয়ে জোর তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ থেকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সিলর, থেরাপিস্টসহ অধ্যাপক এম. এস. কবীর জুয়েল স্যারের সাথে ‘মনঘর’ এর পুরো টিম উক্ত টেলি-ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহন করেন।জ্যুমভিত্তিক এ্যপের মাধ্যমে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে এ কনফারেন্সটির উদ্দ্যোগ নেয়া হয় এবং একইভাবে গুরুতর মানসিক রোগীদেরকে টেলি-ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে আশংকা প্রকাশ করে সতর্ক করে বলা হয়–
বৈশ্বিক মহামারিতে রুগ্ন অর্থনীতির(Global Economic Recession) প্রভাবে করোনা পরবর্তী সময়েও এসব মানসিক রোগের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পাবে যদি যথাযথ Community centric plan করে কাউন্সিলিং না করা হয়।
