করোনা চিন্তা শুচিবায়ু রোগীকে অধিক সংবেদনশীল করতে পারে।

—— অধ্যাপক ডঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

যাদের শুচিবাই রোগ আছে, করোনা কালে তাদের নিয়ে একটু অধিক ঝামেলা পোহাতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের, কিন্তু কিছু বিষয়ে নজর দিলে এ থেকে সহজেই উত্তরণ সম্ভব, অনিচ্ছা সত্ত্বেও বার বার তার নিজস্ব বাধ্যতামূলক কর্মে সে নিয়োজিত হয়ে যেতে পারে,নির্দিষ্ট চিন্তায় সে নিমজ্জিত থাকতে পারে, তার মাঝ থেকে এ অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রতিরোধ্য চিন্তা সরাতে হলে পরিবারের সকল-কে একটি রুটিন তৈরি করে এগুতে হবে, বয়োজ্যেষ্ঠ বা অগ্রজ সদস্যরা তাকে হালকা সংশোধনমূলক উপদেশের সাথে সাথে ব্যবহারগত অসাভাবিক আচরণগুলো পরিবর্তন করাতে বাধ্য করবে, চিন্তাগুলোকে প্রশমিত করাতে ঘর-গৃহস্থালীর অন্যান্য কর্মে আগ্রহী করে তুলতে হবে।
অনুজরা-ও তাকে নিয়ে একটি টিম গঠন করবে ও সেখানে সে টিম লিডার হিসেবে থাকবে, যদি জুনিয়র সদস্যগণ শপথ নেন যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এ বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না বা অনাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে উক্ত কর্মে নিয়োজিত হবেন না, তাহলে টিম লিডার হিসেবে সে নিজের মাঝে সব সময় একটা চাপ অনুভব করবে,যা তাকে অপ্রত্যাশিত আচরণগুলো হতে দূরে রাখবে। আমাদের দেশে পারিবারিক বন্ধন বেশ ভালো, তাছাড়া আমাদের এখানে এখনো একান্নবর্তী পরিবারের ধারণা বিদ্যমান, এ লকডাউন পরিস্থিতি সবাইকে ঘরবন্দী করে ফেলেছে, এখনই উপযুক্ত সময় সকলের সহায়তা নিয়ে সূচিবায় শোধরানোর, ঘরবন্দী সময়টিকে উপযুক্ত ব্যবহার করুন, কোনভাবেই কোভিড নিয়ে মাত্রতিরিক্ত আবেগ, চিন্তা বা করোনা ভাবনাপ্রসূত অসাভাবিক আচরণকে বাড়তে দেবেন না, কারণ ইহা হতে রোগীর মাঝে গুরুতর মানসিক রোগ বা Psychosis দানা বাঁধতে পারে।
নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী সকল আচার ও প্রাত্যাহিক ধর্মীয় কার্যাবলীতে তাকে ব্যস্ত রাখতে হবে যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে সে জীবানুকে পরম করুণাময়ের ইচ্ছাধীন এক অনুজীব বৈ অন্য কিছু মনে না করে, প্রয়োজনে এ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আলোচনায় তাকে প্রতিনিয়ত মনোনিবেশ করাতে হবে।

Prof. M. S. Kabir Jewel

Visiting Professor of Psychiatry
AMC, Borura & AIMST, Kedah, Malaysia.
Former Consultant Psychiatrist,
Ministry of Health, Saudi Arabia.
Unit Head, Psychotherapy & Counselling Unit, SSMC & Mitford Hospital, Dhaka.

Leave a Comment