—সাইক্লোন ফণী মোকাবেলায় মানসিক প্রস্তুতি নিন —

 

May Allah rescue us from devastating Foni Storm/Cyclone/Tsunami……
“Evil (sins and disobedience of Allah etc.) has appeared on land and sea because of what the hands of men have earned (by oppression and evil deeds, etc.), that Allah may make them taste a part of that which they have done, in order that they may return (by repenting to Allah, and begging His Pardon)”- (Ar-Rum 30:41)
ভয়াল ২৯-শে এপ্রিল ‘৯১ ঘূর্ণীঝড় বিধৌত চাটগাঁ-র এলাকাগুলো নবরূপে জেগে উঠেছে,২০০৯ এর সিডর কবলিত দক্ষিণাঞ্চলের কলাপাড়া বা খেঁপুপাড়ায় চিত্তাকর্ষক বেশ কিছু মোটেল গড়ে উঠেছে,কুয়াকাটা হয়েছে আরো সমৃদ্ধ, কোন কিছুই স্থবির হয়ে বসে থাকেনা, জগতের নিয়ম-ই তাই, জগৎ সংসার তার মতো বয়ে চলবেই, কিন্তু ঘটনার পরিক্রমায় এ সব প্রাকৃতিক দূর্যোগ কেবল অফুরান প্রাণহানী ঘটিয়ে যাবে, আর ধংস করে দেবে এই ব্রহ্মবর্তের সমৃদ্ধ জনপদ। আমি বরাবর-ই আৎকে উঠি এমন কোন ঘূর্ণীঝড়ের আগাম সতর্ক সংকেতে, আজ ও আমার চিত্ত বিচলিত সাগর পাড়ের সেই নগ্ন পায়া হা-ভাতে মানুষগুলোর জন্য, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে স্থানীয় কোন নেতার জন্ম হয়না, যারা সব কিছুই নিয়তির ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
আমার প্রথম পদায়ন হয়েছিল(৩১/০৫/২০০১) বরগুণার বামনা থানা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সেই ২০০১ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী মানুষগুলোর প্রতি একটা মমত্তবোধ তৈরী হয়ে আছে, কি অভাবনীয় সাহস নিয়ে ওরা মাঝ দরিয়ায় টলার ভাসায়, প্রতিদিন মন কে মন মাছ ধরে এনে আমাদের আমিষের অভাব মেটায়, আমাদের মতো শাহুরে সাহেব-রা সেই সামুদ্রিক মাছ গুলশান বনানীর ‘Fish & Co’ কিংবা Mermaid Cafe-তে বসে গোগ্রাসে গিলে চলেছি। কখনো ভেবেও দেখিনি — এই সাহসী মৎস্যজীবিরা অচানক ঘূর্ণীঝড়ে বিলীন করে দেয় নিজেদের সাহসী জীবনটাকে, যারা আহত হয়ে ফেরে তাদের বিরত্তের কাহিনী আমরা হেলথ কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ অবাক বিষ্ময়ে শুনতাম ও চিকিৎসা দিতাম, মনোরোগের ছাত্র হওয়ায় আমার আরেকটু বাড়তি দায়িত্ব ছিলো, কাউন্সিলিং সেশন চালু করতে হতো, এ সব হত-দরিদ্র অশিক্ষিত মানুষের আবার কাউন্সিলিং, তাও জীর্ণ শীর্ণ হেলথ কমপ্লেক্সে, একটু অবাক লাগছে তাই না, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, হাস্পাতালের আংগিণা চত্ত্বরে বসানো হলো কয়েকটি চাদর, সারি সারি করে ঘূর্ণীঝড়াক্রান্ত সারভাইভারগুলোকে বসানো হতো, তারপর চলতো Group Counselling Sessions, ঝড়ো হাওয়ার ভয়ানক অভিজ্ঞতায় মনের কোনে যে ভয় শংকা-র সূএপাত হয় ক্রমান্বয়ে তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হতো, তারা আবার উদ্দেগাধিক্য কাটিয়ে সাভাবিক জীবনে ফিয়ে আসতো। প্রাকৃতিক দূর্যোগ পরবর্তী সময়ে উন্নত দেশে জাতিয় ভাবে ‘Mental Health Support & Counselling’ কমিটি গঠন করা হয়।
আমাদের ও বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিৎ, জাতীয়ভাবে কমিটি গঠন করে Natural ও Man Made disaster-এ আক্রান্তদের মানসিক সহায়তা করা সময়ের দাবী।
আমি ও আমার সাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বন্ধুরা ২০০১ এর মে মাসে কলাপাড়া পেরিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে তৎকালীন উবারের সহায়তায়(মোটর সাইকেলের পেছন ভাড়া করে) অনেক চড়াই উৎরাই গড়িয়ে কুয়াকাটা পৌঁছাই, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে বিস্তীর্ণ উপকূলে বিষখালী নদীর আঁচড়ের দাগগুলি সবসময় গুরুত্ব পায়, ওরা ওসবে অভ্যস্ত; সাগর তীরের বিচ্ছু ন্যাকাবোকা পোলাপান দেখলে বোঝাই যাবেনা, ওদের মনে কোন ভয় আছে, ওরা জীবনকে মৃত্যুর মুখোমুখি করতে জানে, ওরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে জানে,তবে ২০০৯-এর সিডর ওদের জীবনে স্তব্ধতা নামিয়ে আনে, ঝড়ের কবলে পতিত হয়ে অনেক ক্ষতি হয়েছিলো সেবার,আমি ততোদিনে অধিক মূণাফার আশায় মধ্যপ্রাচ্যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকুরী নিয়ে চলে গেছি, ভয়কাতুরে মানুষগুলোকে মরুঝড়(নিছক বালু ও কংকর) মোকাবিলার কাউন্সিলিং-এ ব্যস্ত। পরে জানতে পারি বরগুনার রোগীগুলোর কেউ কেউ মুঠোফোনে আমাকে চেষ্টা করেছিলো। সুদূর মরুদেশে থেকেও আন্তর্জাতিক পত্রিকার শিরোনামে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার মানুষের প্রাকৃতিক এই দূর্যোগের কথা জেনে ব্যথিত হয়ে উঠেছিলাম, ঠিক এভাবেই আজ ‘ভয়াল ফণী’-র আগমনি বার্তায় বরগুনার বামনা হেলথ কমপ্লেক্সের দিনগুলোর কথা মনে করে নষ্টালজিক হয়ে পড়ছি, বার বার মনে হচ্ছে সেই ডেউয়াতলা আবার ঢেউয়ে তলিয়ে যাবে আর তখনও কিছু মানুষ টের-ই পাবেনা, এই তো আমাদের আবহাওয়ার সতর্ক বার্তা, এই তো আমাদের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, এ সব বিপদজনক সতর্ক সংকেত শাহুরে মানুষের মাঝে যতোটা আলোচিত হয়, কেন তা সমূদ্র তীরবর্তী জনতাকে ততোটা আলোড়িত করতে পারেনা, এ বিষয়ে ভেবে চিন্তে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

Leave a Comment