আমাদের জাপানী প্রজন্মান্তর বাট নেতৃত্ব এখনো……


জাপানে-র নারিতা বন্দরে নেমে পুরো জাপান চষে-ও কোথাও -“Father of Humanity” অথবা “Father of Education” নামক কোন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, নিয়নসাইন খুঁজে পাবেন না অথচ জাপানী প্রধান মন্ত্রীদের মাঝে ‘শিনজো আবে’-র অবস্থান অনেক ওপরে, তিনি যেমন জনপ্রিয় তেমনি আইন প্রয়োগে যথেষ্ট কঠোরতা অবলম্বন করতেন। ২০১৫-এ ইয়োকাহামাতে একটি বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন করতে গেলে স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং আইনের সংশোধণ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-র পদত্যাগ দাবী করে, ক্রমান্বয়ে ইহা অন্যান্য শহরে সঞ্চারিত হতে থাকে ও ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রী-র পদত্যাগ চান, মি.আবে বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হলেন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইন-টি পরিমার্জিত করে উপযোগী করতে বললেন,ছাত্র ছাত্রীরা স্থায়ীরুপে রাস্তায় অবস্থান করায় নগরীতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়, জাপানী পুলিশ অত্যন্ত পরোপকারী ও জনবান্ধব হওয়া সত্তেও আন্দোলনকারী কিশোর কিশোরীদের সাথে বদানুবাদে জড়িয়ে পড়ায় কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো যদিও কেহ-ই আহত হলোনা। শিনজো আবে-র আদেশমতে আইনটি-র সংশোধনের প্রকৃয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে,কেবল নতুন আইনের ঘোষনা বাকি, এমন সময় আবে নিজেই নতুন ঘোষনা দিলেন “আমি ব্যর্থ কারন আমার শাসনাধীন সময়ে জাপানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পুলিশ বল প্রয়োগের চেষ্টা করেছে, ওদের শিক্ষা জীবনের মূল্যবান কয়েক দিন ওরা রাস্তায় কাটিয়েছে,তাই আমি পদত্যাগ করছি”, যদিওবা পরবর্তিতে ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-র সদস্যদের একান্ত অনুরোধে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন কারন ইয়োকোহোমার পুলিশ প্রধান আগেই স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। সেই আবে ২০১২ থেকে এখনো জাপানের প্রধানমন্ত্রী তবে রীতিমতো সুচারু গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে-ই সে পুনঃনির্বাচিত, মাঝে মাঝে ভাবি ওরা এতো বোকা কেন, নির্বাচন টির্বাচন না করে থেকে গেলেই তো হয়, কারন জনপ্রিয়তায় তো কোন ভাটা পড়েনি, তাই এক জাপানী-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন তারা এতো উদার, ভদ্র, সৎ ও পরিচ্ছন্ন, জবাবে বললেন “আমাদের স্কুলে শিশুদের কেবল উদারতা ও সততা শেখাতে আলাদা কমিটি রয়েছে এবং প্রতিমাসে তার রিপোর্টিং করতে হয়।” তাৎক্ষনিক ভাবে মনে পড়লো আমার দেশেও কমিটি হয় তবে সে কমিটি ওদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী আর নগ্ন রাজনৈতিক কর্মীর লেবাসে মানুষকে ঠকানো শেখায়।