পদ্মার কড়াল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া অপূর্ব সৌন্দর্যের সেই গ্রামটি আজো আমার মন-কে প্রায়ই বিচলিত করে তোলে…

অধ্যাপক এম. এস. কবীর জুয়েল।

আজকের(০৪/০৮/২১) প্রধান অনুসন্ধানী খবর হওয়া উচিৎ ছিলো, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে ২০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানী, কেন গ্রামগুলোতে হঠাৎ বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়ে চলেছে? ইহা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন কি কি ভূমিকা পালন করছে?প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনারঘাটতি সমূহ কোথায়?ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পূনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিৎ। মহান আল্লাহ ওদের সবাইকে ক্ষমা করুন।বিগত কয়েক বছরেই এ দেশের গ্রাম গুলোতে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, অথচ ফাঁকা মাঠ গুলোতেদীর্ঘাকায় তাল গাছ বা অন্য বিজ্ঞানভিত্তিক বৃক্ষ রোপন এবং টাওয়ার সমূহের সাথে আর্থিং করে উন্নত বিশ্বে বজ্রপাতে মৃত্যু অনেক কমে এসছে।এ দেশের মানুষগুলোর জন্য কষ্ট হয়, প্রতি জেলায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস রয়েছে, ব্জ্রপাত যে একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং এ জন্য প্রতিটি দেশের সরকারের নির্দিষ্ট Allocated fund থাকে, আমার মনে হয় অধিকাংশ গ্রামের মেম্বার বা ইউ পি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বেখেয়ালি অথবা তারা ফাইল সর্বস্য শহর কেন্দ্রিক অফিসগুলো থেকে দর কষাকষি করে এ ফান্ড জোগার করতে ব্যর্থ হয়, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ হতভাগা মানুষেদের। মাঝে মাঝে ভাবি এ দেশের সাধারণত জণগণ তাদের নিজেদের অধিকার আদায় করতেও জানেনা,নিজেরা বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যবস্থা নিতেও জানেনা, আবার আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়ার পূর্ণ প্রার্থনা-ও জানেনা,তাহলে তারা কি এভাবেই তাদের জীবনাবসান ঘটাতে থাকবে ? এ ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেই সূর্য নারায়নপুর আমার মাতুলালয়,এখানেই আমার জন্ম হয়েছিলো এক ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস বংশীয় বাড়িতে, নানার নাম ছিলো জাফর আহম্মেদ বিশ্বাস, কিন্তু আমার জন্মস্থান-গ্রাম কিছুর বিন্দু বিসর্গ আর এখন নেই, প্রতিবেশী দেশের ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপে প্রমক্তা পদ্মা-র ক্ষর স্রোতে বহু আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সেই সমৃদ্ধ গ্রাম-গঞ্জ-আর সমগ্র স্থাপনা, তবুও ঐতিহ্যবাহী হওয়ায় নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ এখনো টিকে আছে, যারবংশ পরম্পরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলো আমার বড় মামা ও বর্তমানে ছোট মামা,কিন্তু আগেই বলেছি এ দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধি-রা আজ প্রশাসনের কাছে জিম্মি, তা-ই তাদের ক্ষমতা দিন দিন সীমিত হয়ে যাচ্ছে;এমন কি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কৌশলে নিস্ক্রিয় করে অনেক স্থানে ইউ.এন.ও -রা ঠিকাদারি সহ নানাবিধ অনৈতিক মুনাফা অর্জনে জড়িয়ে পড়েছে, কাজেই তাদের কাছ থেকে বজ্রপাতের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আশা করাটা বাতুলতা মাত্র,জনদরদী তৃণমূল নেতা ব্যতিরেকে গ্রামের মানুষের এ হেন দুঃখ কষ্ট লাঘব অসম্ভব। বাংলাদেশ ও ভারতের নদীগুলোকে নিজদের সুবিধাজনক সময়ে ব্যবহার করার জন্য JRC (Joint River Commission) নামে একটি কাগুজে সংগঠন রয়েছে, যার পুরো সুবিধে প্রতিবেশী নিয়ে যায়, ফলে আজ উওরাঞ্চলে অসময়ে বণ্যা আর ক্ষরা চলছে, জলবায়ু-র এ বৈরী পরিস্থিতিতেই অধিকবজ্রপাত ঘটে থাকে। কদিন আগেই সংসদে এক শীর্ষ সরকার দলীয় নেতা আক্ষেপ করলেন, কেন জেলা গুলোর সমন্নয়ের দায়িত্ব আমলাদের দেয়া হবে, তাহলে রাজনীতিকদের কাজটা কি? ৫০ বছর পেরিয়েও সততা ও যোগ্যতার সমন্নয় ঘটিয়ে সারা বাংলাদেশের জেলা ও তৃনমুল পর্যায়ে দক্ষ জাঁদরেল রাজনীতিবিদ তৈরী করতে আমরা ব্যর্থ,এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে আমলারা। আমি বিশ্বাস করি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম Kowshik Ahmed, Imtiaz Masrur Quick, Abdullah Faruk আমার মাতুলালয়ের ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে ব্রতি হবে। আসুন দেখে নেই বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোন কি, হযরত আয়েশা(রাঃ) বজ্রপাতসহ ঝড়ো হাওয়ার প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-কে অত্যন্ত বিচলিত দেখতেন,তিনি কেবল পায়চারি করতেন আর উম্মতের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতেন কারন ইতোপূর্বে “আদ” সহ বহু জাতি ও সভ্যতা এ দূর্যোগেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। —Mother of the believers HazratAisha(R) reported: The Prophet Mohammed(PBUH), if there was a windy storm, he would say, “O Allah, I ask You for its good, the good within it, and the good for which it was sent. I seek refuge in You from its evil, the evil within it, and the evil for which it was sent.” If the sky began to light up and thunder, the color of the Prophet’s face would change and he would anxiously come and go, back and forth. If it rained, he would be pleased with it and I could recognize the signs of that on his face. I asked him about it and the Prophet said, “O Aisha, perhaps it is as Allah said about the people of ‘Ad: When they saw it as a cloud approaching their valleys, they said this is a cloud bringing us rain!” (46:24)Source: Ṣaḥīḥ Muslim 899

Leave a Comment