“শাহুরে বাবার মন সন্তান খোঁজে বৃক্ষ মাঝে “
অধ্যাপক এম. এস. কবীর জুয়েল।

নগরালয়ে বাবাদের বেশীরভাগের সঙ্গী বৃক্ষ, গ্রামে অফুরান প্রকৃতি নদী-পাখি-গৃহপালিত প্রাণী ইত্যাদির সাথেও নিঃসঙ্গ বাবারা কথা বলতে পারেন কিন্তু শাহুরে বাবাদের নিজ বাড়ির ছাদে আলগোছে কেটে যাচ্ছে তাদের দিবা সময়ের একটা বিরাট অংশ….আর ছাদকৃষির বদৌলতে ফল-ফুলের গাছ হয়ে উঠেছে তাদের নিত্যকার জীবনের অংশ। বাবারা নিজ সন্তান ভেবে বৃক্ষরাজের সাথে কথা বলে, ভাবুক হয়ে কল্পনায় বৃক্ষের গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়, মনের অজান্তেই বৃক্ষের ফলটি সন্তানতূল্য স্নেহে আদৃত হয়, শ-শ-শব্যস্ত নগর জীবনের ইট-পাথর-রডের স্থাপত্যে আমাদের চিত্ত-ও কিছুটা পাথুরসম হয়ে গেছে, আমরা পশ্চিমা কায়দায় দিবস পালনের রীতিতে অভ্যস্থ হচ্ছি, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যের প্রার্থনায় “রাব্বীর হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানী ছগীরা” -তেও ছেদ পড়েছে, অতি যান্ত্রিকতায় কি এক অজ্ঞাত আকর্ষনে সবাই নিরন্তর ছুটে চলেছি…. ফলে দিন শেষে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে বাবা-মা-র সাথে কিছুটা সময় কাটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। মাঝে মাঝে ভাবি — “ফিরিয়ে দাও সেই অরণ্য, লও এ নগর”, কবির সেই বিখ্যাত উক্তিতেই কেবল এ অসীম প্রতিযোগিতাপূর্ণ মেকানিকাল লাইফ থেকে মূক্তি। শুভ হোক ‘বাবা দিবস’, সবার বাবাকে মহান আল্লাহ নেক হায়াত দান করুন, এ প্রত্যাশায়।
