অধ্যাপক ডা. এম. এস. কবির জুয়েল :
আমরা কেন শুধু শুধু প্রান্তিক মানুষগুলোকে দোষ দিচ্ছি ?

“অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেভাবেই হোক দ্রুত বর্ধনশীল কিছু ধনীর আবির্ভাব হওয়ায় সামাজিক বৈষম্যগুলো ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠছে” –পরিবহন ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী,অন্তত এ করোনাকালে তো অবশ্যই —নইলে ঘুরে-ফিরে অজ্ঞাতেই হেলিকপ্টার আর চার্টার্ড বিমান ওয়ালারাও আক্রান্ত হবে।
বৈশ্বিক মহামারীতে সারা দুনিয়ার সভ্য দেশগুলোর
পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক পরিবর্তন এসছে,তারা বাজেটের একটা বড় অংশ সামাজিক দূরত্ত বজায় রাখার শর্তে গণপরিবহন সেক্টরে বরাদ্দ করেছে, শুধুমাত্র সংক্রমন কমানোর জন্য।

কেবল মধ্য-পূর্ব আফ্রিকার কিছু দেশ আর এ উপমহাদেশের কয়েকটি দেশ ব্যতিরেকে, এরপরও কি আমরা বলবো,অনেকদূর এগিয়েছি ?
আমাদের গণ মানুষের মাঝে করোনা সতর্কতা এতোটাই প্রবল নয় যে, কেবল নিজ নিজ অবস্থানে ঈদ পালনের আহবান জানালেই তারা তা পালন করবে,
আগেই আমাদের তা ভাবা উচিৎ ছিলো, সীমান্তবর্তী
জেলাগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল,সেখানে যারা যাচ্ছে তাদের একটা বিরাট অংশ প্রতিবেশী দেশের ভেরিয়েন্ট নিয়েই আবার নিজের অজান্তেই রাজধানীমুখী হবে,সে হতে পারে আপনার বাসার গৃহকর্মীর ভাই বোন বা মা বাবা, কিংবা আপনার গাড়ি চালকের বন্ধু, আপনি কতোটা খেয়াল করবেন?
ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিষয় এটা নয়, এভাবে তা আটকানো সম্ভবও নয়,মনে রাখতে হবে এটা Endemic নয় Pandemic ; এসব সামগ্রিক বিষয়,অনেক আগে থেকে নির্বাহী বিভাগ সাস্থ্য বিভাগের সাথে অগ্রিম পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে দিয়ে জনগনের মাঝে মোটিভেশান চালাবে,আজ কেন ফেরী বন্ধ থাকবে না চলবে তা সিদ্ধান্ত হচ্ছে?
মোটিভেট করার চেষ্টা করেও কিছু মানুষ তার ব্যত্যয় ঘটাবে,সিগারেটের প্যকেটে দুনিয়াব্যপি ক্যন্সার ক্ষত
ফুসফুস এর ছবি দেওয়া হচ্ছে,ধুমপান বিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাই বলেই কি ধুমপান বন্ধ হয়ে গেছে,কিছুটা সুফল আসবে,বাকিটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে,আর কিছুটা উপেক্ষা মেনে নিতে হবে,এটাই Community Negligence, আর আমাদের মতো অসচেতন দেশের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষের মাঝে এ উপেক্ষা থাকবেই।
সুতরাং তাদের জন্য সামাজিক দূরত্ত নিশ্চিত করেই পযাপ্ত সড়ক ও নৌ পরিবহনের ব্যবস্থা করাটা খুব কি কঠিন কাজ?
সারা বিশ্বে পুঁজিবাদী সূদী সমাজ ব্যবস্থার অনেক গুলো কুফলের একটি হচ্ছে — Crystal clear rapidly
growing discrimination among inhabitants,অর্থাৎ আপামর জণগণের মাঝে স্পষ্ট চক্ষুশূল অর্থীক বৈষম্য এবং যা ক্রমান্বয়ে বর্ধনশীল ;
তবে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে তা প্রকট হয়না কেবলমাত্র জবাবদিহীতার সংস্কৃতি ও Citizen Rights এর পরিপূর্ন প্রয়োগ থাকায়, আমরা প্রত্যাশা করি এসব বঞ্চিত দেশের নাগরিকগণও সচেতন হবে এবং তাদের নিজেদের অধিকার গুলোও ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পাবে ইন-শা-আল্লাহ।
লেখক পরিচিতি : Prof.M.S.Kabir JewelVisiting Professor, AMC & AIMST,Kedah,Malaysia & Former Consultant psychiatrist, Ministry of Health, Kingdom of Saudi Arabia.