সার, যাইয়েন না ; আমাগো ছাইড়া কই যাইবেন…

অধ্যাপক এম. এস. কবীর জুয়েল।

কাল আবার Knock করেছে ওরা, এখন SALARY বাড়িয়েছে ৫ গুন, করোনা পরবর্তী অবসাদগ্রস্ততা- করোনাক্রান্ত স্মৃতিভ্রম রোগ বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের আবশ্যকতা ওখানে আরো তীব্র হয়েছে ;তবু এ গরীব দেশ ছেড়ে পেট্রো ডলারের লোভে যেতে ইচ্ছে হয়না, যারা ইতোমধ্যেই আমাদের “মনঘর” সংস্থ্যাটির ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছে, যারা আমাকে দিবা-রাত সাহায্য করে এ দেশের সর্বস্তরের মানসিক রোগীগুলোকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, আমার সেই এক ডজন সহকর্মীকে অনিশ্চয়তার মাঝে রেখে কিভাবে দেশ ছেড়ে যাই? সর্বোপরি বিগত ১ যুগ ধরে যে প্রান্তিক মানুষগুলো আমাদের ওপর ভরসা করে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছে, তাদের ফেলে কি আদৌ শুধুমাত্র অর্থ আয়ের নিমিত্তে পুনরায় প্রবাসী হওয়া উচিৎ? ইদানীং বড্ড বেশী ভাবছি কি করবো? কি করা-ই বা সময়ের দাবী? আমি মোটেও আমাদের অভিজাত এলাকার কেউকাটাদের জন্য ভাবিনে, জানি তারা বিকল্প খুঁজে নেবে, ইতিপূর্বে (২০০৯-২০১২) নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণে-ই কিছু চিরকৃতজ্ঞ মানুষের অবয়ব অবচেতন মনে চলে আসে — তারা স্পষ্ট কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করছে—“যাইয়েন না সার – আমাগো ছাইড়া কই যাইবেন, একবার চইলা গেছিলেন, মাইয়াডারে নিয়া বহুত কষ্ট করছি, এহনো পুরাপুরি বালা হয় নাই — আর পোলাটা যে বাড়ি থনে চইল্যা গেলো, আইজো ফিরা আইলো না—-” এ কি ‘অডিটরি হ্যলুসিনেশন’ নাকি ‘অবসেসিব ভয়েস ইমপালস’ — যা – ই হোক আমি মাঝে মাঝেই শুনি আর অত্যগ্র এক ঝাঁকুনিতে পুনরায় সম্বিৎ ফিরে পাই……আমার দ্বিধান্বিত চিত্ত কিছুটা উষ্মা নিয়েই ক্ষণিকের সুখানুভূতিতে শান্ত হয়, সেইসাথে মুগ্ধতার মোহজাল ভেঙে কিছু ছাত্র-ছাত্রীর চেহারা ভেসে ওঠে, তাদের অনেকেই এখন বড় বড় কর্পোরেট হাসপাতালের খ্যতনামা কনস্যাল্ট্যন্ট, কেউ AMC, CMC, PLAB আর USMLE করে প্রবাসেও দিব্যি ভালো আছে… প্রায়শঃই পরামর্শের জন্য WhatsApp-এ ফোন দিয়ে নষ্টালজিক করে তোলে, সেই ২০০২ সাল থেকে ময়মনসিংহ তারপর ২০০৩-এ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা পেশার এ প্রাপ্তি বর্নণাতীত….তবে মালয়েশিয়ার AIMST(Asian Institute of Medicine Science & Technology) এর দৃশ্যমান ক্যম্পাস আমাকে এখনো টানে, সেখানেও রয়েছে রকমারী বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সমাহার, আর্থিকসুবিধাদী তুলনামূলক মধ্যপ্রাচ্যের ন্যায় না হলেও রয়েছে যোগ্যতানুযায়ী যথাযথ সন্মান….. —

Leave a Comment