“পাহাড়ী শুভ্র নির্মল পরোপকারী মনের মানুষ ছিলো ওমর ফারুক ত্রিপুরা”

অধ্যাপক এম. এস. কবীর জুয়েল।

আজ ৯-ই আগষ্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী গোষ্ঠী দিবস
“International day of the world’s indigenous peoples” এবারের জাতিসংঘ নির্দেশিত বিষয়টি হলো — ‘Leaving no one behind: Indigenous peoples and the call for a new social contract’
“কাউকে পেছনে না রেখে বরং আদিবাসীদের নিয়ে নতুন সমাজিক বন্ধনের আহবান”
অথচ এ বছরের ১৮ই জুন ওমর ফারুক ত্রিপুরা-কে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এদেশের বিচ্ছিন্নতাকামী পাহাড়ী গোষ্ঠী পুনরায় জাতিসংঘ ঘোষিত এ আহবানকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়েছে।
এ আস্পর্ধা আর ঔদ্ধত্য তারা অর্জন করেছে পশ্চিমাদের ছত্রছায়ায় টিকে থাকা অনেকগুলো এন. জি. ও থেকে; অথচ গতমাসে কানাডাতে গীর্জা পরিচালিত বাচ্চাদের কয়েকটি স্কুল বিল্ডিং এর নীচ থেকে শত শত নিহত আদিবাসী শিশুর মাথার খুলি, হাড়, কংকাল উদঘাটিত হয়েছে, এ নিয়ে সাধারণ মানবিক জ্ঞান সম্পন্ন কানাডিয়ানরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, তারা এর বিচার দাবী করেছেন, তারা তাদের এবারের জাতীয় দিবসে কোনরুপ জৌলুস করেন নাই বরং শোক প্রকাশ করে রলি করেছে এবং বৃটেনের রাণীর প্রতি তাচ্ছিল্য দেখিয়েছেন, কারন ইহার পেছনে রয়েছে এ দেশটির প্রত্যক্ষ মদদ, অমানবিক নির্যাতন করে অষ্ট্রেলিয়া-কানাডাসহ তৎকালীন সময়ের ঔপনিবেশিক অনেক দেশের আদিবাসীদের মেরে ফেলা হতো, আর এখন তারাই এন. জি. ও এর ব্যানারে বিভিন্ন দেশে দেশে আদিবাসী রক্ষার নামে ধর্মান্তরিত করার চক্রান্তে মেতেছে। সাম্রাজ্যবাদী খ্রিস্টান-ইহুদি চক্র ও তাদের দোষর-রা সারা দুনিয়ায় এখন আরো অনেক বেশী সক্রিয়, নব্য ঔপনিবেশিক পন্থায় তারা এগুচ্ছে, আমাদের পার্বত্য এলাকার পর তাদের দিতীয় লক্ষ্য দরিদ্র শ্রেনীর রোহিঙ্গাগণ —
আগ্রাসী মিশনারীদের সুপ্ত লক্ষ্য-ই আমাদের পাহাড়ের মানুষদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার মতো আরেকটি ‘পূর্ব তিমুর’ সৃষ্টি করা; পাহাড়ে ইসলামের প্রসার-ই কেবল এ বিচ্ছিন্নতাবাদী অপতৎপরতা ঠেকাতে পারে।
আমাদের কাছে আদিবাসী মানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা, বাংলাদেশে টোটাল পপুলেশনের প্রায় ২% এই আদিবাসী, যাদের নিজস্ব সামাজিক রীতিনীতি রয়েছে, পাহাড়ীদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসও ছিলো কিন্তু পাহাড়ি এলাকা এখন প্রতাবশালী মিশনারী খ্রিস্টানদের আনাগোনায় মুখরিত, অফুরন্ত সুযোগ সুবিধের হাতছানি আর উন্নত আয়েশী জীবনের প্রত্যাশায় বুঝে না বুঝেই আদিবাসীদের একটা বিরাট অংশ খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে, মিশনারী ধর্মযাজকরা এ নৃগোষ্ঠীকে নানা বৈষম্যর কথা বলে উস্কেও দিচ্ছে, তাদের মধ্য থেকে উচ্চাকাংখী যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে যথেষ্ট আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে, তাদের একত্রিত করে বিদ্রোহী হওয়ার জন্য কুপরামর্শ দেওয়ার নজীর রয়েছে, শোনা যায় পাহাড়ে অস্ত্রের যোগানও ঐ মিশনারী ও তাদের সহযোগী আশ পাশের সীমান্তের ওপার থেকে এসে থাকে, ফলে ইতোমধ্যেই সেখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু সশস্ত্র বাহিনী যারা পুরো পাহাড়ী এলাকাটিকে ভয়াল বিচ্ছিন্ন দীপে পরিণত করেছে।
‘মাইকেল চাকমা’-র নামে ২০২০ এর মাঝামাঝি সময়ে ১১ টি মামলা ছিলো, এর মাঝে ৪ টি হত্যা মামলা, তৎকালীন সোনারগাঁও থানার পুলিশ অফিসারের ভাষ্যমতে সে জন্যি নাকি মাইকেল চাকমা আত্মগোপনে চলে যায়, ঘটনা যা-ই হোক ঠিক তার পরের দিন-ই মূল ধারার ধজাধারী পত্রিকা ওয়ালারা বড় করে প্রথম পাতায় শিরোনামসহ সংবাদ ছাপায়, একজন তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে আমাদের পাহাড়ি এলাকায় যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তাদের নিয়ে ব্যানার সর্বস্য সংস্থ্যা গুলো প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, তাদের দৃষ্টিতে উহা মানবাধিকারের স্পষ্ট লংঘন; আপত্তি নেই, অবশ্যই অপরাধীর ও নাম নিজস্ব আইনি অধিকার রয়েছে, কিন্তু ঐ একই মানুষগুলো আজ আরেক পাহাড়ি ভাই ওমর ফারুকের নৃশংস হত্যার ঘটনায় পর্বতসম নিরবতা পালন করছে, গত জুম্মাবার(১৮ই জুন) বাড়ি হতে ডেকে সশস্ত্র যুবকদের দল বর্বরভাবে প্রকাশ্যে পরিবারের সম্মুখে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সে শুধু নিজেই ইসলাম গ্রহন করেননি সেই সাথে আশেপাশের ৩০টির অধিক পরিবারকে নও মুসলিম করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। ওমর ফারুকের আগের নাম ছিল বেরণ চন্দ্র ত্রিপুরা। সে মৃত তয়ারাম ত্রিপুরার ছেলে। ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে কয়েক বছর আগে সে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ওই এলাকায় একটি অস্থায়ী মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন থেকে সন্ত্রাসীরা ওই মসজিদের ইমামকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনাস্থল তুলাঝিড়ি পাড়ায় গত কয়েক বছর ধরে নওমুসলিমসহ বেশ কিছু পরিবার বসবাস করে আসছিল। তারা সেখানে টিনের ছাউনির কাঁচা ঘরের একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করে। সেখানে মোহাম্মদ ওমর ফারুক মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। গত শুক্রবার রাতে ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ঘরবাড়ি ঘেরাও করে ওমর ফারুককে ঘর থেকে ডেকে এনে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ে উত্তেজনা, বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের আদিপত্য, চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ, দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যা, প্রশাসনের দ্বারা উচ্ছেদ, যুগের পর যুগ এক ভয়ংকর পরিস্থিতি বিরাজমান। এর শেষ কোথায়?
সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা প্রশাসনের দ্বারা জোরপূর্বক উচ্ছেদ কোনটাই সমর্থনযোগ্য নয়।
পাহাড়ি অঞ্চল কি বাংলাদেশ থেকে আলাদা?
এগুলো সমাধানে রাষ্ট্রকে আরো জোরালো ভূমিকা নিতে হবে, মসজিদে ইমাম নওমুসলিম উপজাতি ওমর ফারুক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আজ ৯-ই আগষ্ট আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে পুনঃরায় একই সাথে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার, প্রশাসনসহ ও স্থানীয় জনগণকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাই।

JusticeForOmarFaruk

Leave a Comment