স্পর্শকাতর ইস্যুতে পাসপোর্টের কোন লেখা পরিবর্তনের পূর্বে Digitally Referendum এর মাধ্যমে গণমত যাচাই করা উচিৎ।

অধ্যাপক ডাঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

“মালয়েশিয়া-র পাসপোর্ট কি —-
আন্তজার্তিক মানের নয়” ? ?

তবে কিভাবে একজন প্রকৃত মালয়েশিয়ান পাসপোর্টধারী ব্যক্তি বিনা ভিসায় এ খয়েরী রঙের পাসপোর্টটি দিয়ে ১১০টি দেশে অবাধে ভ্রমন করতে পারেন ?

ওরা স্পষ্টভাবে ইজরাইল-কে বর্জন করে তা তাদের পাসপোর্টে উল্লেখ করেছে,এতে কি তাদের আন্তর্জাতিক মান কমে গেছে ?
ভ্রমন বা কর্মসূত্রে যে কয়বার-ই মালয়েশিয়ার এয়ারপোর্টে নেমেছি, অন্তত আমি কক্ষনোই কোন হয়রানীর শিকার হওয়া তো দূরের কথা, বরং Extra Honour পেয়েছি, সরকারী পাসপোর্ট, সেই সাথে Immigration law enforcer গুলো বেশ উৎসাহের সাথে দেখাতো, দেখো – This page is smilar in your passport & our passports, তাদের কথার মূল বিষয় (Theme) হলো – “except Israel”.. তারা বলতো—
সুতরাং চিন্তা চেতনায় তোমরা ও আমরা একই মনের, আমরা উভয়েই দখলদার ইজরাইলকে ঘৃণা করি, ফিলিস্তিনের বিজয় চাই; তারা আরো এক ধাপ আমাকে বেশী এগিয়ে দিতো যখন শুনতো মধ্যপ্রাচ্যে আমার ফিলিস্তিনী চিকিৎসকদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আর আমি ওদের দেশেও কেদাহ-প্রদেশের AIMST-তে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। বেশ কয়েক বছর আগে সরকারী Recruiting Agency BOESL -এর মাধ্যমে মালদ্বীপের IGMH (Indira Gandhi Memorial Hospital)-এ Senior Consultant psychiatrist হিসেবে মেধাতালিকার অগ্রভাগে থেকে নিয়োগ পেয়েছিলাম, কিন্তু মালয়েশিয়া আর মালদ্বীপের মুসলিমদের চেতনায় বিশাল ফারাক বিদ্যমান, আজ শুধু এ টুকুই বলবো ।


কেন কিভাবে ৯৭% মুসলিম দেশ হয়েও মালদ্বীপ তার জণগনের মাঝে নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনায় ব্যর্থ, আশপাশের দেশের আগ্রাসী প্রভাবে কেন মালদ্বীপ স্বকীয়তা হারাতে বসেছে, সচেতন মানুষ মাত্র তা একটু খেয়াল করলেই অনুমেয়। মালদ্বীপের পাসপোর্ট তেমন কোন বিশেষ চেতনা বহন করেনা বরং পর্যটন নির্ভর মালদ্বীপের কাছে পর্যটন ব্যবসার আয়-ই মূখ্য, তা যে উৎস থেকেই আসুক না কেন?
অথচ মালয়েশিয়া মাত্র ৬২% মুসলিমের দেশ, কিন্তু তাদের চিন্তা ভাবনা আর মুসলিম চেতনা সত্যিই ঈর্ষনীয়; পুরো এশিয়ার অন্যতম ইমার্জিং টাইগার মালয়েশিয়া, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ, আশিয়ান, ও.আই.সি সব ক্ষেত্রে দাপটের সাথে ভূমিকা রাখছে মালয়েশিয়া, সম্প্রতি ইজরাইল- ফিলিস্তিন যুদ্ধ বিরতিতেও পরোক্ষভাবে ‘তুরস্ক-ইরান-কাতার’এর পক্ষে আন্তর্জাতিক অভিমত গঠনে মালয়েশিয়া অংশগ্রহণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য মাহাথীর মোহাম্মদ সরাসরি নির্ভয়ে মায়ানমারকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে আঞ্চলিক জোটগুলো থেকে তাদের বের করে দিতে অনুরোধ করেছে,প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলাদা আরাকান রাষ্ট্র গঠনের হুমকি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার এহেন কর্মপদ্ধতি কি যথেষ্ট নয় যে, তারা আমাদের চেয়ে কতো বেশী Global & South-East Geo Political – সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে চলেছে, এ জন্য কি তাদের দীর্ঘদিনের আবেগ মিশ্রিত পাসপোর্ট-এর পাতা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছে?
বাংলাদেশকে ভাবতেই হবে আমরা কাকে অনুসরণ করবো, পাসপোর্ট এর বিষয়ে হুটহাট করে সিদ্ধান্ত গ্রহন আমাদের আপামর জণগনের ধর্মীয় চেতনার সাথে সঙ্গতি পূর্ণ না হলে তা পুনরায়ঃ পরিবর্তন করা যেতেই পারে, কিংবা অনলাইন জরিপ চালিয়ে দেখা যেতে পারে ৷ মধ্যরাতে চটকদার চ্যনেলগুলোতে ‘এক কাপ কফি আর ৩-৫০০০/’ খাম প্রত্যাশী তৈলবাজ দলকানা বক্তাগুলোর কথা মোটেও ধর্তব্য নয় ; অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে, এ দেশের আপামর জনগণ কি চায়?
বহু দেশে এসব সিদ্ধান্তঃ “Digital Referendum” এর মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত অনলাইন ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়।

Leave a Comment